ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচনে ১৫ জনের অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
মার্কিন নির্বাচনে ১৫ জনের অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছেন ১৫ জন। এর পরিমাণ ১৫০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা) বেশি। যা এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সবচেয়ে ব্যয়বহুলে পরিণত করেছে।

এসব দাতারা গত বুধবার পর্যন্ত দুই রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে অনুদান দিয়েছেন। এ সম্পর্কিত ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে এএফপি। এতে দেখা গেছে, বিশেষ ওই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে ‘সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশ
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও রিপাবলিকানদের মিত্র ইলন মাস্ক ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও এআই কোম্পানি এক্সএআইয়ের মালিক। মোট অনুদানের মধ্যে মাস্ক সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছেন গত ১ জুলাইয়ের পর- ২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের সীমা তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে হওয়া নির্বাচনগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছেন মাস্ক।
পরামর্শক সংস্থা ‘ইস্যু ওয়ানের’ মাইকেল বেকেল এএফপিকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি।’ বেকেল সংস্থাটির ‘মানি ইন পলিটিক্স রিফর্ম’ বিভাগের পরিচালক।

এএফপি ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর থেকে দেওয়া অনুদানের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেগুলোর নির্বাহীদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদার এবং স্বামী বা স্ত্রীকে একজন দাতা হিসেবে গণনা করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়নের হিসাব রাখতে অনুসরণ করা হয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের চালু করা পদ্ধতি।

প্রযুক্তি জায়ান্ট
শীর্ষ ১৫ দাতার মধ্যে পাঁচজনই প্রযুক্তি খাতের, বিশেষ করে এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে যুক্ত। ইস্যু ওয়ানের মাইকেল বেকেল বলেন, এসব দাতাদের লক্ষ্য নিজ নিজ খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা। যেসব রাজনীতিবিদরা নির্বাচিত হলে সেই লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতা করবেন, তাদের পেছনে বিপুল অর্থ ঢালা হচ্ছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনজামিন হোরোভিৎস এখন পর্যন্ত ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। তাঁরা এআইয়ের পক্ষে কাজ করা সুপার পিএসি ‘লিডিং দ্য ফিউচার’-এ ৫ কোটি ডলার দিয়েছেন। অপরদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক সুপার পিএসি ‘ফেয়ারশেক’-এ দিয়েছেন ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুপার পিএসি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) ইনকরপোরেটেড’-এও তাঁরা ১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘কয়েনবেস’ চলতি নির্বাচনী চক্রে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। এ অর্থের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান আর্মস্ট্রংয়ের অনুদান আছে। আরেক ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান রিপল ল্যাবস ও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের অনুদানের বড় অংশই গেছে ‘ফেয়ারশেক’-এ।

ক্রিপ্টো জগতের পরিচিত দুই ভাই ক্যামেরন ও টেইলর উইঙ্কলভস ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ এবং নিজেদের ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে কাজ করা সুপার পিএসিতে অনুদান দিয়েছেন।

ইলন মাস্কের অধিকাংশ অনুদান গেছে রিপাবলিকানপন্থি ‘আমেরিকা পিএসি’ এবং রিপাবলিকান সিনেট লিডারশিপ ফান্ডের (এসএলএফ) সুপার পিএসিতে। টেক্সাসে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে সেপ্টেম্বরে মাস্কের দেওয়া ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যবহার করেছে এসএলএফ।

‘ডার্ক মানি’ বা গোপন অনুদান
চলতি নির্বাচনী চক্রে শীর্ষ ১৫ দাতার মধ্যে আছে চারটি অলাভজনক সংস্থা। সেগুলো ‘৫০১সি৪’ সংস্থা বা ‘ডার্ক মানি’ গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তারা নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়ন করে। আইন অনুযায়ী, তাদের পরিচয় গোপন রাখার অধিকার আছে।

ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা শ্যানা পোর্টস এএফপিকে বলেন, বছরের পর বছর গোপন অনুদানের অর্থ বাড়ছে। এটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। নির্বাচনী প্রচারে যেসব বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে কারা অর্থায়ন করেছে- সেটি জানার অধিকার ভোটারদেরও থাকা উচিত।

রিপাবলিকানপন্থী অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়ান নেশন’ রিপাবলিকান সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে (এসএলএফ) প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়েছে। আরেক গোষ্ঠী ‘আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটপন্থি দুই অলাভজনক সংস্থা- হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড ও মেজরিটি ফরোয়ার্ড যথাক্রমে ‘হাউস মেজরিটি পিএসিকে’ ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ‘সিনেট মেজরিটি পিএসিকে’ ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার দিয়েছে। দুটি সংস্থাই কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে কাজ করে।

দীর্ঘদিনের বড় দাতারা
নির্বাচনী প্রচারে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ দিয়ে আসা কয়েকজন বড় দাতা চলতি নির্বাচনী চক্রেও অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। ধনকুবের দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন রিপাবলিকানদের সমর্থনে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের অনুদান দিয়ে আসা জর্জ সরোস অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছেন। ইসরায়েলি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও রক্ষণশীল রাজনীতির দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসন বিভিন্ন রিপাবলিকান পিএসিতে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিয়েছেন।

অন্য বড় দাতাদের মধ্যে আছেন ধনকুবের জেফ ইয়াস। তিনি এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছেন, যার বেশিরভাগই গেছে রিপাবলিকানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে।

নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ২৬ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বরের পর দেওয়া অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ডলার। ব্লুমবার্গের দল নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তিনি ৮ কোটি ডলার ব্যয় করবেন।


কমেন্ট বক্স